চুয়াডাঙ্গা ডেস্ক রিপোর্টঃ একটি পরিবারের স্বপ্নের ঠিকানার ওপর যেন ঝুলে আছে অদৃশ্য মৃত্যুফাঁদ। প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় শঙ্কা নিয়ে, রাত নামে আতঙ্কে। চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের সাংবাদিক নাছিমের বসতবাড়ির ছাদের মাত্র কয়েক ফুট ওপর দিয়ে চলে গেছে পল্লী বিদ্যুতের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মেইন লাইন। পরিবারটির অভিযোগ, এই লাইন যেকোনো সময় কেড়ে নিতে পারে মূল্যবান প্রাণ, ঘটাতে পারে অপূরণীয় ক্ষতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির ছাদের এতটাই কাছ দিয়ে বিদ্যুতের তারগুলো অতিক্রম করেছে যে, দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন ছাদের ওপরই ঝুলে আছে। মাত্র কয়েক ফুট ব্যবধান। সামান্য অসতর্কতা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগই হতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। ছাদে ওঠা যেন এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান। শিশুদের খেলাধুলা তো দূরের কথা, পরিবারের কেউ প্রয়োজন ছাড়া ছাদে যেতে সাহস পান না। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা বাতাস শুরু হলেই উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। কারণ সামান্য স্পার্কিং বা তার ছিঁড়ে পড়লেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
সাংবাদিক নাছিম বলেন, “এটি শুধু আমার পরিবারের সমস্যা নয়, পুরো এলাকার জন্যই বড় ঝুঁকি। প্রতিদিন মনে হয় মৃত্যুকে মাথার ওপর নিয়ে বসবাস করছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”স্থানীয় বাসিন্দারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বসতবাড়ির এত কাছ দিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন থাকা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বাড়ির চারপাশের গাছপালা ও বাঁশঝাড়ের ডালপালা তারের খুব কাছাকাছি চলে আসায় ঝড়-বৃষ্টির সময় অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে গেছে।এলাকাবাসীর প্রশ্ন, একটি আবাসিক এলাকায় কীভাবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইন রয়ে গেল? নিরাপত্তার বিষয়টি কি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল? নাকি দুর্ঘটনার অপেক্ষায় আছে সংশ্লিষ্টরা?বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বসতবাড়ির এত কাছে লাইন থাকলে মানুষের জীবন ও সম্পদ উভয়ই হুমকির মুখে পড়ে। এ ধরনের ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত প্রকৌশলগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।