রাজনৈতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়ি এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের কাঠালতলী বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ উঠেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি মাধবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি মো. মিজানুর রহমান লাভলু কাজীর। ঘটনার সময় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল এবং সেখানে কেউ অবস্থান করছিলেন না।
লাভলু কাজী অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। তার দাবি, প্রথমে এস্কেভেটর দিয়ে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়, পরে ঘরের মালামাল লুট করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর ছোট ভাই ও মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার রাতে লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুকে লাইভে এসে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চাইলেও হামলা ঠেকানো যায়নি।
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনাস্থলের জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ২০০৩ সালে জমিটি পাবলিক লাইব্রেরির নামে নিবন্ধিত হয়। অন্যদের দাবি, জমির একটি অংশ লাভলু কাজীর মালিকানাধীন। আবার কেউ কেউ বলছেন, বেশির ভাগ জমিই সরকারি গণগ্রন্থাগারের। এ জমি উদ্ধারের দাবিতে পটুয়াখালী সরকারি গণগ্রন্থাগারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
অভিযোগের বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত শাহীন চৌধুরীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির (স্থগিত কমিটি) সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং ভাঙচুরের আলামত দেখতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। তিনি বলেন, জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিষয়টি তদন্ত করছিলেন। তদন্ত চলাকালেই এ ঘটনা ঘটে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।