• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১২ অপরাহ্ন

মানিকগঞ্জ-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি-জামায়াত ছুটছে

Un24admin
আপডেটঃ : বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫

আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মানিকগঞ্জ-২ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হচ্ছে। সিংগাইর ও হরিরামপুর উপজেলা এবং সদর উপজেলার হাটিপাড়া ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে সক্রিয় দুই রাজনৈতিক শক্তি হলো বিএনপি ও জামায়াত। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, এবার এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

মানিকগঞ্জ-২ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাস সমৃদ্ধ। আশির দশকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম সারওয়ার মিলন টানা দুইবার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির শামসুল ইসলাম খান জয়ী হন। তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হন বিএনপির মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। পরে মানিকগঞ্জ-৪ আসন বিলুপ্ত হয়ে সিংগাইর ও হরিরামপুরসহ দুই ইউনিয়ন নিয়ে মানিকগঞ্জ-২ গঠিত হয়। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির এস. এম. আব্দুল মান্নান বিজয়ী হন। তবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয় পান আওয়ামী লীগের মমতাজ বেগম। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের পর বিএনপি কার্যত কোণঠাসা হলেও গত ৫ আগস্টের পর সংগঠনে প্রাণ ফেরেছে। বর্তমানে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত বলেন, “আমি পূর্বে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য ছিলাম। এবারও বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেলে আসনের নদীভাঙ্গন রোধ, সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধ ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। মানিকগঞ্জ-২ আসনের মানুষ পরিবর্তন চায়, আমরা সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেব।”

বৃহত্তর যুবসমাজের ভোটকে গুরুত্ব দিয়ে মাজাহারুল ইসলাম খান পায়েল, জাসাস কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, বলেন, “আমরা সাধারণ জনগণের দ্বারপ্রান্তে গিয়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছি। ভোট পেলে আমি কৃষক, আর্থসামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নদীভাঙ্গন রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ-২ আসনকে মডেল আসনে রূপান্তর করতে চাই।”

স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তরুণদের কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও স্বস্তিপূর্ণ জনজীবন নিশ্চিত করাই তাদের মূল অঙ্গীকার। জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা মো. আব্দুল হামিদ মিয়া ও সাবেক ছাত্রনেতা মো. রতন খান মাঠে সরব হয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন।

বিএনপির পাশাপাশি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, “আমরা ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতি চাই। ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ভোটাধিকার, দুর্নীতি ও শিক্ষা সংস্কারের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ-২ আসনকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলব।”

এছাড়া খেলাফত মজলিস, হেফাজতে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গণ অধিকার পরিষদও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুহাদ্দিস শেখ মো. সালাহ উদ্দিন, হেফাজতের খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, জমিয়তের মুফতি শামসুল আরেফিন খান সাদী এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. মুসা মিয়া।

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি, এনসিপি, সিপিবি বা গণসংহতি আন্দোলনের মতো ছোট দলগুলো এখনও মাঠে তেমন সক্রিয় হয়নি। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হওয়া আওয়ামী লীগও এই আসনে প্রচারণায় তেমন দৃশ্যমান নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসনটিতে ভোট মূলত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং কর্মসংস্থান ইস্যুতে নির্ধারিত হবে। তরুণ ভোটারদের বড় অংশ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান করছে, ফলে বিএনপি ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার আরও তীব্র হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ