জেলা ডেস্ক রিপোর্টঃ যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে আজ বুধবার উপজেলায় সকাল ছয়টা থেকে হরতাল পালিত হচ্ছে।
নওয়াপাড়ার সর্বস্তরের ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী সংগঠনগুলোর আহ্বানে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সকাল থেকেই হরতাল সমর্থকরা দোকানপাট বন্ধ রেখে যশোর-খুলনা মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। সড়কের ওপর টায়ার জ্বালিয়ে ও বাঁশ বেঁধে অবরোধ করায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সাথে নওয়াপাড়া নৌবন্দরে ভৈরব নদে অবস্থানরত কার্গো জাহাজ থেকে পণ্য খালাসসহ ঘাট ও গোডাউনের যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ৬ মে সন্ধায় বাসা ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে আনিছুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তার মালিকানাধীন আনিছ ট্রেড ভ্যালি মার্কেটের সামনে বসে থাকা আনিছুর রহমানের সামনে গিয়ে শাহ মো. মাহমুদ নামে এক যুবক চেয়ারে লাথি মেরে চেয়ারটি ফেলে দিয়ে আনিসুর রহমানকে গালিগালাজ করে। এরপর তার কোমর থেকে চাইনিজ কুড়াল বের করে প্রকাশ্যে আনিছুর রহমানকে মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে সে পালিয়ে যায়।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে রাত দুইটার দিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরদিন নিহতের স্ত্রী নাহিদা ইমাম বাদী হয়ে উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মাহমুদ হোসেন ও একই গ্রামের নিছার আলীর ছেলে নাসির উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি থানায় মামলা করেন।
আনিসুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা গ্রামের মজিদ সরদারের ছেলে। ব্যবসায়িক কারণে নওয়াপাড়ায় বসবাস করতেন।
অভয়নগর থানার ওসি এস এম নুরুজ্জামান বলেন, আনিছুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে চট্টগ্রাম থেকে মনির হোসেন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।