• বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

আইএমএফের তিন শর্তের চাপে সরকার

Un24admin
আপডেটঃ : বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ আইএমএফ থেকে ঋণ সহায়তার পরবর্তী কিস্তি পেতে কঠোর শর্ত সামনে আসায় এক ধরনের নীতিগত ও রাজনৈতিক দোটানায় পড়েছে সরকার। ভর্তুকি প্রত্যাহার, কর-জিডিপি অনুপাত দ্রুত বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর মতো শর্ত বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় কতটা বাস্তবায়নযোগ্য তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভেতরে এ নিয়ে নানারকম আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা চাইলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঋণ গ্রহণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নীতিগতভাবে ইতিবাচক থাকলেও শর্ত বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণে তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।

এ প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এটি এখন শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তও।

এদিকে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ এবার তাদের অবস্থানে অত্যন্ত অনড়। বিশেষ করে কর কাঠামো সংস্কার, ভর্তুকি কমানো এবং বিনিময় হারকে পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার বিষয়ে তারা কোনো ছাড় দিতে রাজি হয়নি। এ অবস্থায় আইএমএফের সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির আওতায় পরবর্তী দুই কিস্তির অর্থ ছাড় পেতে যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে, তা সরকারি আলোচকদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইএমএফের মূল শর্ত : আইএমএফের শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি হলো-ধীরে ধীরে ভর্তুকি প্রত্যাহার, কর-জিডিপি অনুপাত ৯.২ শতাংশে উন্নীত করা, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার সম্পূর্ণভাবে কার্যকর করা। এর পাশাপাশি সব ধরনের কর অব্যাহতি প্রত্যাহার এবং একক ভ্যাট হার চালুর দাবিও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের এসব শর্ত বাস্তবায়ন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, জ্বালানি সংকট, বিনিয়োগে স্থবিরতা, রপ্তানি হ্রাস এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করে ভর্তুকি প্রত্যাহার বা কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে-এমন আশঙ্কা করছেন নীতিনির্ধারকরা। ভর্তুকি কমানো বা প্রত্যাহার আইএমএফের অন্যতম প্রধান শর্ত হলেও এটি বাস্তবায়ন সবচেয়ে কঠিন। জ্বালানি ও খাদ্য খাতে ভর্তুকি কমালে সরাসরি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ