• শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬, ০৫:৪২ অপরাহ্ন

তরমুজ নয় তদন্তে বেরিয়ে এলো একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যুর রহস্য

Un24admin
আপডেটঃ : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

বিশ্ব ডেস্ক রিপোর্টঃ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের চারজন সেই পরিবারটি তরমুজ খাওয়ার ফলে সৃষ্ট খাদ্য বিষক্রিয়ায় নয়, বরং ‌‘বিষক্রিয়ায়’ মারা গেছেন। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিহতদের দেহে এবং তাদের খাওয়া ফলের নমুনায় ইঁদুর মারার জন্য ব্যবহৃত একটি বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ময়নাতদন্তে নিহতদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে সবুজ আভা প্রকাশ পাওয়ার কয়েকদিন পর চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা বড় ধরনের মোড় নেয়; যা বিষক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে চিকিৎসকরা পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ের নিজ বাড়িতে আত্মীয়দের জন্য নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন ৪৫ বছর বয়সি আবদুল্লাহ দোকাদিয়া ও তার ৩৫ বছর বয়সি স্ত্রী নাসরিন। সেখানে তাদের দুই মেয়ে—১৩ বছরের জয়নাব ও ১৬ বছরের আয়েশাও ছিল। আত্মীয়দের খাবারের জন্য খাসি পোলাও রান্না করা হয়েছিল।

তারা চলে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে ওই পরিবারটি তরমুজ খায়। এরপর ভোর ৫টার দিকে পরিবারের সবার তীব্র বমি ও ডায়রিয়া শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সবাই মারা যান।

ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসকরা তাদের শরীরে জিঙ্ক ফসফাইটের আলামত পেয়েছেন, যা ইঁদুর মারার জন্য বিষাক্ত রাসায়নিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকরা মৃতদের শরীরে এই বিষাক্ত রাসায়নিকের অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন।

পরিবারটির খাওয়া তরমুজের নমুনায়ও ‘জিঙ্ক ফসফাইট’ পাওয়া গেছে। এই রাসায়নিক কি দুর্ঘটনাবশত তরমুজে মিশেছে, নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইনজেকশনের মাধ্যমে ঢোকানো হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

প্রাথমিক ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, মৃত ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং অন্ত্রসহ বেশ কিছু অঙ্গ সবুজ হয়ে গেছে; যা বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া আবদুল্লাহ দোকাদিয়ার শরীরে ‘মরফিন’র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মরফিন এক ধরনের শক্তিশালী ব্যথানাশক; যা সাধারণত কঠোর চিকিৎসাগত নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এই মরফিন তার শরীরে কীভাবে এলো, আগে থেকে কোনও চিকিৎসা চলছিল নাকি কোনো সন্দেহজনক বিষয় রয়েছে সেটিও খতিয়ে দেখছেন তারা।

এই ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। ওই রাতে নৈশভোজে আসা অতিথিদের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে অতিথিরা সবাই সুস্থ আছেন। পুলিশ বলছে, দোকাদিয়ার বাসায় আসা অতিথিরা কেবল পোলাও খেয়েছিলেন। তারা তরমুজ খাননি। সূত্র: এনডিটিভি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ