জাতীয় ডেস্কঃ রাজধানীতে গত ৯ ঘণ্টায় ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। শনিবার রাত ১২টা থেকে আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।
আজ ভোর চারটার দিকে রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতাও বাড়তে থাকে। টানা বৃষ্টিতে তেজগাঁও, মগবাজার, গ্রিন রোড, পান্থপথ, আগারগাঁও, নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও নটর ডেম কলেজের আশপাশের বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়।
কয়েকটি এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। অনেক পথচারীকে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। জলাবদ্ধ সড়কে রিকশাসহ ছোট যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
বৃষ্টির কারণে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়ও ছন্দপতন ঘটে। কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথে দুর্ভোগে পড়েন অনেকে। জলাবদ্ধতার কারণে কোথাও কোথাও যানবাহনের গতি কমে যায়। কয়েকটি এলাকায় সড়কের ওপর গাছ ভেঙে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। নালা ও ড্রেন দিয়ে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকে। এতে গণপরিবহনে চলাচলকারী মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেশি হয়।
আজ সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর জলাবদ্ধতার জন্য নগরবাসী দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা, নালা-নর্দমার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণকে দায়ী করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বারবার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।