• মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

নবী (সা.)-এর সাহরি ও ইফতার

Un24admin
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

ইসলাম ডেস্ক রিপোর্টঃ পবিত্র রমজান মাস ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির একটি মহান সময়। এই মাসে রোজা পালন করার পাশাপাশি নবী মুহাম্মদ (সা.) মুসলমানদের রোজার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আদব ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস শিক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে সাহরি এবং ইফতার কীভাবে করা উচিত, সে বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নবী (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস ছিল অত্যন্ত সহজ, পরিমিত এবং ভারসাম্যপূর্ণ। তিনি অপচয় ও অতিরিক্ত ভোজন থেকে বিরত থাকতেন এবং খাবারকে ইবাদতের জন্য শরীরকে শক্তিশালী রাখার একটি উপায় হিসেবে দেখতেন।

নবী (সা.)-এর সাহরি

নবী (সা.) মুসলমানদের সাহরি খেতে উৎসাহিত করতেন এবং এটি না ছাড়ার জন্য বলতেন, কারণ এতে বরকত রয়েছে। তিনি বলেছেন: ‘তোমরা সাহরি খাও, কারণ সাহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারি এবং মুসলিম)। এই বরকত বলতে বোঝায় সাহরি মানুষের শরীরে শক্তি জোগায়, যা তাকে দিনের দীর্ঘ সময় রোজা রাখতে সাহায্য করে, পাশাপাশি এটি নবী (সা.)-এর সুন্নত অনুসরণের একটি সুযোগও।

নবী (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস ছিল ফজরের আজানের কাছাকাছি সময়ে সাহরি করা। অর্থাৎ তিনি সাহরি দেরিতে করতেন যাতে রোজাদার দিনের বেলায় বেশি সময় শক্তি ধরে রাখতে পারে। বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে নবী (সা.)-এর সাহরি ও ফজরের আজানের মধ্যকার সময় খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, যা সাহরি দেরিতে করার গুরুত্ব নির্দেশ করে।

সাহরির খাবার সাধারণত খুব সহজ ও হালকা হতো। নবী (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের উত্তম সাহরি হলো খেজুর।’ খেজুর ছিল তাঁর অন্যতম প্রিয় খাবার, কারণ এতে প্রাকৃতিক শক্তি ও পুষ্টি রয়েছে। কখনও তিনি কয়েকটি খেজুরের সঙ্গে পানি বা দুধ পান করতেন। এই ধরনের খাবার শরীরকে শক্তি দেয় কিন্তু পেটকে ভারী করে না। (বোখারি এবং মুসলিম)

নবী (সা.) সবসময় পরিমিতভাবে খাওয়ার ওপর জোর দিতেন। তিনি কখনও অতিরিক্ত খেতেন না এবং তাঁর সাহাবিদেরও অতিভোজন থেকে বিরত থাকতে বলতেন। তাঁর মতে, সাহরির উদ্দেশ্য হলো রোজাদারকে শক্তি দেওয়া, অতিরিক্ত খাবার খাওয়া নয়।

নবীজির (সা.) ইফতার

যেমন তিনি সাহরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি সূর্যাস্তের পর দ্রুত ইফতার করার কথাও বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করবে।’ তাই নবী (সা.) সূর্যাস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করতেন এবং মাগরিবের নামাজের আগে রোজা ভাঙতেন।

নবী (সা.)-এর ইফতার ছিল সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত। সাহাবি আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণনা করেছেন যে নবী (সা.) মাগরিবের নামাজের আগে তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না থাকত, তবে শুকনা খেজুর খেতেন; আর যদি সেটাও না থাকত, তবে কয়েক চুমুক পানি পান করতেন।

খেজুর দিয়ে ইফতার করা অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে যা দ্রুত শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনে। আর পানি দীর্ঘ সময় না খাওয়ার পর শরীরকে আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে।

এরপর তিনি মাগরিবের নামাজ আদায় করতেন এবং পরে প্রধান খাবার খেতেন। তবে সব সময় তিনি সংযম বজায় রাখতেন। তিনি অতিভোজনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে বলেছেন: ‘মানুষ তার পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র পূর্ণ করে না।’ তিনি আরও বলেছেন, মানুষের জন্য কয়েক লোকমাই যথেষ্ট। আর যদি বেশি খেতেই হয়, তবে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাসের জন্য রাখা উচিত। (তিরমিজি)

নবী (সা.)-এর সাহরি ও ইফতার থেকে শিক্ষা

নবী (সা.)-এর সাহরি ও ইফতারের সুন্নত একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারার শিক্ষা দেয়। এতে সাহরির গুরুত্ব, সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে ইফতার করার গুরুত্ব এবং খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার শুরু করার উপকারিতা তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া এটি আমাদের শেখায় যে খাবারে সংযম বজায় রাখা এবং অপচয় থেকে দূরে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবারকে ভোগের বস্তু হিসেবে নয়, বরং ইবাদত ও সুস্থ জীবনযাপনের সহায়ক হিসেবে দেখা উচিত।

সবশেষে বলা যায়, নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহরি ও ইফতারের পদ্ধতি ছিল সরলতা, ভারসাম্য ও সচেতনতার একটি সুন্দর উদাহরণ। এই সুন্নত অনুসরণ করলে মুসলমানরা রমজান মাসে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে পারে এবং একই সঙ্গে ইবাদতের প্রতি আরও মনোযোগী হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ