জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ যথাযথ মর্যাদায় আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৬ বুধবার (১০ জুন) পালিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় অবদান রাখা এবং দায়িত্ব পালনকালে হতাহত শান্তিরক্ষীদের স্মরণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে- বিশ্ব শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গকারী ও আহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। একই সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৯২৮ জন নারী সদস্যসহ মোট ২১ হাজার ৮২৮ জন পুলিশ সদস্য বিশ্বের ২৫টি দেশে ২৭টি শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে আটজন নারী সদস্যসহ বাংলাদেশ পুলিশের ৩৭ জন কর্মকর্তা জাতিসংঘ পুলিশ (ইউএনপোল) ও জাতিসংঘের বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী সদস্যরা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছেন।
ভয়ঙ্কর পরিণতি দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশের ২৫ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে তারা বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
হাইতির ভূমিকম্প-পরবর্তী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম থেকে শুরু করে আফ্রিকা ও ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তাদের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রায় চার দশক ধরে বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ তাদের অঙ্গীকার অব্যাহত রেখেছে।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর ২৯ মে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। যদিও এ বছর ওই দিন সরকারি ছুটি থাকায় দিবসটি ১০ জুন উদযাপন করা হচ্ছে।