• মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
বিশ্বমঞ্চকে বিদায় জানালেন রোনালদো তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ মোল্লা নজরুলসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৩৩ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৮ জনের মৃত্যু ব্রাজিলকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টারে নরওয়ে তদন্ত প্রতিবেদন সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে : চিফ প্রসিকিউটর সরকারি ব্যানার-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ এমবাপ্পের পেনাল্টিতে প্যারাগুয়েকে হারিয়ে শেষ আটে ফ্রান্স ইউএন-কপস’ সম্মেলনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরিশাল বিভাগে পপুলার লাইফের বীমা দাবির চেক হস্তান্তর

আজ থেকে চালু ‘মোংলা কমিউটার’

Un24admin
আপডেটঃ : শনিবার, ১ জুন, ২০২৪
আজ থেকে চালু ‘মোংলা কমিউটার’
আজ থেকে চালু ‘মোংলা কমিউটার’

আনলিমিটেড নিউজঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘মোংলা কমিউটার’। উদ্বোধনের সাত মাস পর শনিবার (১ জুন) থেকে খুলনা-মোংলা রুটে যাত্রীবাহী এই ট্রেন চলাচল করবে।

এদিকে এর মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৭৩ বছর পর রেল যোগাযোগে যুক্ত হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে সোয়া ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রেলপথে চলবে একটি মাত্র ট্রেন।

২০২৩ সালের ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভার্চুয়ালি এই রেলপথ উদ্বোধন করেন। এর আগে, ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ফুলতলা থেকে মোংলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালানো হয়।

এরই মধ্যে ট্রেন চলাচলের সময়সূচি এবং ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই রুটে চলবে খুলনা-বেনাপোল রুটের বেতনা কমিউটার ট্রেনটি। বেতনা এক্সপ্রেসের পুরাতন বগি এবং ইঞ্জিন দিয়েই শুরু হচ্ছে মোংলা-বেনাপোল ট্রেন চলাচল।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ জুন সকাল সোয়া ৯টায় বেনাপোল থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাবে মোংলার উদ্দেশে। ট্রেনটি পৌঁছাবে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে। এরপর মোংলা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে দুপুর ১টায় এবং বেনাপোলে পৌঁছাবে বিকেল সাড়ে ৪টায়। মঙ্গলবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিন এই রুটে একই সময়ে ট্রেন চলাচল করবে। এই রুটের দূরত্ব ১৩৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ৯৬/৯৫ বেতনা কমিউটার ট্রেনটি ফুলতলা-খুলনা-ফুলতলা সেকশনে চলাচল করবে না। ট্রেনটি মোংলা কমিউটার নামে পরিচালিত হবে। ট্রেনটিতে দ্বিতীয় আসন ব্যবস্থা থাকবে। ট্রেনের আসন সংখ্যা ৬৭৬টি। এই রুটে ডে অফ থাকবে প্রতি মঙ্গলবার।

খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আরিফুজ্জামান বলেন, খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত রেললাইন ট্রেন চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী রয়েছে। ৮ স্টেশনে আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। ১ জুন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার অসীম কুমার তালকুদার বলেন, আপাতত ‘বেতনা কমিউটার’ ট্রেনটি বেনাপোল থেকে মোংলা কমিউটার ট্রেন হয়ে বেনাপোল-মোংলা রুটে চলাচল করবে। পরবর্তীতে আরেকটি রেক দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।

সূচি অনুযায়ী, খুলনা-বেনাপোল-মোংলা-বেনাপোল-খুলনা রুটে বেতনা কমিউটার ট্রেনটি খুলনা থেকে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে।

একই ট্রেন নাম বদলে ‘মোংলা কমিউটার’ নামে বেনাপোল থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে মোংলা পৌঁছাবে ১২টা ৩৫ মিনিটে। এর মধ্যে নতুন এই রুটে যাত্রাবিরতি নাভারণে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছায় ৯টা ৫০ মিনিটে, যশোরে ১০টা ১১ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় ১০টা ৩০ মিনিটে, নোয়াপাড়ায় ১০টা ৪৬ মিনিটে, ফুলতলায় বেলা ১১টা ৪ মিনিটে, মোহাম্মদগর স্টেশনে ১১টা ৩১ মিনিটে, কাটাখালী স্টেশনে ১১টা ৫০ মিনিটে, চুলকাটি বাজারে ১২টা এবং মোংলায় পৌঁছাবে ১২টা ৩৫ মিনিটে।

ট্রেনটি মোংলা থেকে দুপুর ১টায় ছেড়ে বেনাপোল পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে। এর মধ্যে চুলকাটি বাজারে ১টা ২২ মিনিটে, কাটাখারীতে ১টা ৪০ মিনিটে, খুলনার মোহাম্মদনগরে ১টা ৫৯ মিনিটে, ফুলতলায় ২টা ২৫ মিনিটে যাত্রাবিরতি করে নোয়াপাড়ায় ২টা ৩২ মিনিটে, চেঙ্গুটিয়ায় ২টা ৫২ মিনিটে, সিঙ্গিয়ায় বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে, যশোরে ৩টা ৩০ মিনিটে, ঝিকরগাছা ৩টা ৫২ মিনিটে, নাভারণে বিকেল ৪টা ১১ মিনিটে এবং বেনাপোলে পৌঁছাবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে।

ট্রেনটি আবার বেতনা কমিউটার হয়ে বেনাপোল থেকে বিকেল ৫টায় ছেড়ে খুলনায় পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে।

উল্লেখ্য, দেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর মোংলা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত মোংলা খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পশুর নদী ও মোংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পথে ট্রেন চলাচল শুরু হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর দিয়ে দ্রুত সময়ে ও কম খরচে মালামাল নিতে পারবেন। গতিশীল হবে মোংলার সঙ্গে যাতায়াত সুবিধা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ