• রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
অতীতে বিমা খাত কমিশন ব্যবসার খাত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে‍‍‍‌‌ ন্যাশনাল লাইফের বোর্ড সেক্রেটারি আব্দুল ওহাব মিয়ানের ইন্তেকাল ফরিদপুরে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে বিএমডিএ চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ সহস্রাধিক রাজধানীর কাঁটাবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে, দুইজনের মৃত্যু শাহবাগে আবাসিক ভবন থেকে নারী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার মাদকবিরোধী সচেতনতায় পপুলার লাইফের প্রথম পুরস্কার অর্জন বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে ঘুষ লেনদেন ১২,৬৩৩ কোটি টাকা: টিআইবি লক্ষ্মীপুরে মা ও দুই মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

কারখানার শ্রমিকদের মিলেনি বেতন-বোনাস ঘরে ঘরে হাহাকার

Un24admin
আপডেটঃ : শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫

আনলিমিটেড নিউজ ডেস্কঃ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট। শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৯,৬৯৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭,২২৪টি কারখানা এখনও মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। এছাড়া ৭২৩টি পোশাক কারখানা শ্রমিকদের ঈদ বোনাস দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ১২২টি কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের এবং ৩০টি কারখানায় জানুয়ারি মাসের বেতন এখনও বকেয়া রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।

গাজীপুরের সিগনেচার অ্যাপারেলস এবং হ্যাগ নিটওয়্যার কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতন ও বোনাস না পেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। একইভাবে নারায়ণগঞ্জে একটি কারখানার শ্রমিকরা ঈদের ছুটি বাড়ানোর দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন। ঢাকার শ্রম ভবনের সামনে পাঁচ দিন ধরে অবস্থান করছেন অ্যাপারেল প্লাস ইকো লিমিটেডসহ চারটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা।

সরকার এই সংকট মোকাবেলায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বেতন-বোনাস পরিশোধ না করায় ১২টি কারখানার মালিকদের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্ডার সংকটের কারণে কিছু কারখানার আর্থিক সমস্যা হয়েছে এবং তারা জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা করছেন।

এদিকে শ্রমিকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক শ্রমিক পরিবার ঈদের প্রস্তুতি নিতে পারছে না। রুবিনা বেগম নামের এক শ্রমিক বলেন, “বেতন না পেলে ঈদের কেনাকাটা কিভাবে করব? সন্তানদের নতুন জামাকাপড় দেব কীভাবে?” বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই সংকট যদি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর সবচেয়ে বড় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিতে পারে।

ঈদের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় এই সংকট দ্রুত সমাধানের তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার, মালিক পক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক শিল্পের এই সংকট শিল্পের ভবিষ্যতের জন্যও হুমকি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ