আন্তর্জাতিক ডেস্ক রিপোর্টঃ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ননথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত সাত নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, হামলাকারী স্কুল ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে। তবে পরে থাই পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সন্দেহভাজন হামলাকারীও মারা গেছে। তবে সে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পোহ টেক তুং ফাউন্ডেশন-এর স্বেচ্ছাসেবীরা স্বনামধন্য এই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে গুলির খবর পান।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, নিহত দুজনের একজন শিক্ষক বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতের সংখ্যা অন্তত ১০ জন বলে প্রথমে জানানো হলেও থাই পিবিএস জানায়, এ সংখ্যা ১৫ জন। অন্যদিকে রয়টার্স পুলিশের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, একজন শিক্ষক নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী আত্মহত্যা করেছে।
অভিযুক্ত হামলাকারী অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পর সে স্কুলের গোলাপি রঙের ভবনের তৃতীয় তলায় নিজেকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে।
দেবসিরিন স্কুল থাইল্যান্ডের একটি স্বনামধন্য মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দেশজুড়ে এর একাধিক শাখা রয়েছে। যে শাখায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটি ননথাবুরি প্রদেশে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত।
ব্যাংককে অবস্থিত মূল দেবসিরিন স্কুল ১৮৮৫ সালে থাইল্যান্ডের রাজা চুলালংকর্ন প্রতিষ্ঠা করেন। দেশটির বহু কূটনীতিক, ক্রীড়াবিদ এবং একাধিক প্রধানমন্ত্রী এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। থাইল্যান্ডে দেবসিরিন স্কুল ও এর বিভিন্ন শাখা শিক্ষার মান ও মর্যাদার জন্য সুপরিচিত।