জাতীয় ডেস্ক রিপোর্টঃ সরকারের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে উল্লেখ করে তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশালে কানহর ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় খালপাড়ে একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য তাদের জ্বালা ধরেছে। এজন্য এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে। তারা কৃষকদের সমস্যা, খাল কাটা, কর্মসংস্থানের কথা বলছে না। তারা অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। এ ধরনের অরাজক পরিস্থিতি হলে ক্ষতি কার হবে? কৃষকের-মানুষের।
তিনি বলেন, যারা দেশে অরাজকতা করছে, তাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট বিতাড়িতদের আতাত আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে ত্রিশালবাসীর জন্য একটি আনন্দের দিন। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন। পরবর্তীতে এই খালটির খনন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে কৃষকের। আজ এই খালটি পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলাম। ফলে জেলার ৪ লাখ ৩ হাজর কৃষক উপকৃত হবেন, আর এই এলাকার ২০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। ময়মনসিংহ জেলায় এরকম প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার খাল আছে, যা পুনঃখনন করতে চাই।
তিনি বলেন, সরকার যে খাল খনন করছে তাতে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। সরকার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে।
মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, অপরাধীকে শাস্তি পেতেই হবে। কিছু মানুষ অরাজক পরিস্থিতি তৈরি আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, বলেছিলাম সরকার গঠন করলে খাল খনন করব, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দেব, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ দেব। কাজ চলছে, জুলাইয়ের মধ্যে পোশাক ও ব্যাগ দেওয়া হবে। ইমাম ও ধর্মগুরুদের সম্মানী দেব, সেটাও করছি। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব, সেটাও পর্যাযক্রমে শুরু করেছি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০ কোটি মানুষের পরিবারের জন্য ফ্যামিল কার্ড, কৃষক কার্ড ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করা কি একদিনে সম্ভব? ঐক্যবদ্ধ থাকলে পর্যায়ক্রমে সবই সম্ভব।
তিনি বলেন, পল্লবীতে শিশু রামিসার মৃত্যু দুঃখজনক ও অত্যন্ত হৃদয় বিদারক ঘটনা। কেউ অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে আইন-কানুন আছে। কিছু মানুষ অস্থিতিশীল পরিস্থিতির তৈরি করছে। তারা আইনের শাসনে বাধা দিচ্ছে। আইনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে, তাহলেই ভাগ্য পরিবর্তন হবে। সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ন্যায় বিচার বাধাগ্রস্ত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিন খেলতে দেওয়া হবে না।
সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন শাজাহান নামে তৎকালীন যুবদলের স্থানীয় সভাপতি। ১৯৭৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন এই খালটি খনন করতে এসেছিলেন, তখনও তিনি তার সঙ্গে ছিলেন। সেই একই স্থানে একই খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিতে থাকতে পেরে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পরে প্রধানমন্ত্রী ত্রিশাল দরিরামপুরের নজরুল মঞ্চের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বিকাল ৪টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে কবির স্মৃতিবিজড়িত দরিরামপুর নজরুল মঞ্চে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।