এন.এ.জীবনঃঃ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৩ নভেম্বরের লক ডাউন কর্মসূচিকে সামনে রেখে সরকারের কঠোর মনোভাব লক্ষ্য করা গেলেও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে মতৈক প্রকোপ। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে, নানাবিধ দাবি ও রাজনৈতিক দলগুলো এখনো একমতে আসতে না পারার কারণে প্রশাসনের ভেতরেও অস্থিরতা রয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীকে এক পুলিশ কর্মকর্তা পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার কারনে তাকে দায়িত্ব থেকে ক্লোজ করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর বেশকিছু অভিযানে বিএনপি-জামায়াত তরুণদের দল এনসিপি’র নেতারাও গ্রেফতার হয়েছেন অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদক সহ বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে।
তবে নির্বাচনেক কেন্দ্র করে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের কারণে মাঠ উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে চলে গেছে। জামায়াত নেতা মোঃ তাহেরের বক্তব্যকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, আমাদের ঘি লাগবেই, সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে, আঙ্গুল বাঁকা করে ঘি নিবেন। বিএনপি নেতারা জামায়াত নেতা তাহেরের এমন বক্তব্যকে দেশ ও জনগণের প্রতি হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ইশরাক হোসেইন কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াত নেতার এ বক্তব্যে।
এ দিকে আগামী ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের লক-ডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ১২৭টি স্থানকে ঝুকিপূর্ণ চিহ্নিত করছে প্রশাসন। আর প্রতিটি স্থানে ২৪ এর পক্ষের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি অবস্থান করবে রাজপথে।
জানাযায়, আওয়ামী লীগের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কোথাও যেনো কোনো নাশকতা বা জনগণের জানমালের ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কঠোর অবস্থানে থাকবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের কঠোর ভাবে এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের কর্মসূচি রাজনীতিতে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক ভাবে ও রাজপথের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করে একটি সুপরিকল্পিত চমক দেখাতে যাচ্ছে দলটি। আর সরকারও আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিকে হাল্কাভাবে নিচ্ছে না। প্রশাসনের বিশেষ টিম নজরদারি বৃদ্ধি করছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলোতে। অন্যদিকে যৌথবাহিনীর অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে। রাজধানীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিছিল যেভাবে লম্বা হচ্ছে,তেমনি নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৩ তারিখকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে নেতাকর্মীরা ঢাকাতে অবস্থান নিয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তিন স্থরে প্রোগ্রামটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে টিম করে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। ঢাকার আশেপাশের এলাকাকে একটি বৃত্তে নিয়ে এসে দায়িত্ব দিয়েছে বেশ কিছু নেতাকে দলটি। কেরানীগঞ্জের এক নেতাকে বৃহৎ পরিকল্পনার বাস্তবায়নে মাস্টার রুল প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উত্তরায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গাজিপুর ও টঙ্গীর তিন নেতাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জন্য একটি সমন্বয় টিম করেছে দলটি। বিশেষ বিবেচনায় প্রয়োজনে লগি-বইঠার নির্দেশ দেয়া আছে দলটির পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের এ কর্মসূচিটি প্রতিবাদের বড় ধাক্কার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।