• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
প্রবাসীদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা : আইনমন্ত্রী সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ নেই: তথ্য উপদেষ্টা সচিবালয়ে কড়াকড়ি: এমপিদের গাড়িতেও অতিরিক্ত ব্যক্তি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে কী বলা হয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বাস ভবনে হামলায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নতুন মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ সরকার বিধবা কার্ড দিলে এমপির বউ সবার আগে নেবে: হাসনাত নোয়াখালীতে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৬৪ হাজার টাকার বীমা দাবির চেক হস্তান্তর নারীস্বাস্থ্য রূপান্তরে বৈশ্বিক অংশীদারত্ব ও উদ্ভাবনী অর্থায়নের আহ্বান জুবাইদা রহমানের নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

শুক্রবারে বেশি বেশি দান-খয়রাত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ

Un24admin
আপডেটঃ : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইসলাম ডেস্কঃ আজ শুক্রবার জুমার দিন। বিশ্বের মুসলমানদের জন্য সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য অন্যতম তাৎপর্যবহ একটি দিবস। জুমা নামে পবিত্র কোরআনে একটি সূরা আছে। এইদিনে মহান আল্লাহ তায়ালা জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছিলেন।

ইসলামের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য ঘটনা প্রবাহ এই দিনে হওয়ায় জুমার দিনের গুরুত্ব প্রতিটি মুসলমানদের কাছে অনেক বেশি। মহান আল্লাহ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে এবং রাসুল (সা.) তার বাণীতে দিনটির ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন। ফলে জুমার দিনের রয়েছে আলাদা মর্যাদা।

দিনটির গুরুত্ব বিবেচনা করে অধিক সওয়াবের আশায় এ দিনে অনেকে বেশি বেশি দান খয়রাত করে থাকেন। দানের মাত্রা বাড়িয়ে দেন। তবে কি জুমার দিনে দান খয়রাতে বেশি সওয়াব রয়েছে?

প্রকৃত কথা হলো, ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। একমাত্র রমজান মাস ছাড়া অন্য কোনো দিনে দান-খয়রাতের বিশেষ কোনো ফযিলত ইসলামে দেওয়া হয়নি। তবে দুস্থ, নিঃস্ব, গরিব, এতিম, মিসকিন, আশ্রয়হীন, পঙ্গু, বস্তিবাসী, অন্ধ, অসহায়দের দুঃখ-কষ্ট মোচনে সাহায্য-সহযোগিতায় দান-খয়রাত করা অনেক সওয়াবের কাজ।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘তোমরা যে পর্যন্ত না নিজেদের প্রিয় বস্তু দান করবে, সে পর্যন্ত কোনো সওয়াব পাবে না।’ আরও বলেছেন, যে বা যারা অঢেল ধন-সম্পদ, অর্থ সঞ্চয় করছে তারা যেন দুনিয়া ত্যাগ করার আগেই আল্লাহর নামে ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ দান-খয়রাত করে যেতে থাকে।’

শুধু তাই নয়, আমাদের মহানবী মুহাম্মদের (সা.) কাছে কেউ কিছু চাইলে তার কাছে যা থাকত তা-ই দান করে দিতেন। নিজে অসমর্থ হলে অন্য কারও কাছ থেকে ধারকর্জ করে হলেও দানপ্রার্থীকে দিয়ে দিতেন। নিজের অতি প্রয়োজনকে তুচ্ছ মনে করে পরিবার-পরিজনকে অভুক্ত রেখেও গরিব, এতিম, মিসকিন, অসহায়-অভাবী মানুষকে আহার করাতেন। আল্লাহর প্রিয় নবীর (সা.) দান-খয়রাত ছিল বিশ্বব্যাপী মানবতার সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আবু দাউদ শরিফে উল্লেখ আছে, একবার হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তার সাহাবিদের নিয়ে ওহুদ পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। পাহাড়টি দেখে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমার সামর্থ্য থাকলে গরিব-দুঃখী, এতিম, অভাবী, অসহায় মানুষকে এই পাহাড়সম স্বর্ণ দান করে দিতাম।’

আল্লাহর প্রিয় হাবিব মুহাম্মদের (সা.) এমনই ছিল দান-খয়রাতের আদর্শ। দান-খয়রাতের ফজিলত ও মরতবা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন-হাদিসে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি নিতান্ত অভাবের তাড়নায় কারও কাছে চাইলে তাকে ধমক দেওয়া হলে এবং তাতে যদি অন্তরে চোট লাগে এবং কষ্ট পেয়ে চোখ দিয়ে দরদরিয়ে পানি ঝরে, এমন কথা বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে কারিমে ইরশাদ করেছেন, ‘তুমি দানপ্রার্থীকে ধমক দিও না। শুধু এ কথা বলেই আল্লাহতায়ালা ক্ষান্ত হননি। তিনি তার স্বীয় কালামে আবারও ঘোষণা করেছেন, কোনো কিছু দানপ্রার্থীকে দান বা খয়রাত দেওয়া হোক বা না হোক কোনো প্রকার কষ্টদায়ক কথা বলার চেয়ে একটি মিষ্টি-মধুর কথা বলাই উত্তম।

আল্লাহতায়ালার ওই বাণীতে স্পষ্টতই বোঝা যায়, অভাব-অভিযোগের তাড়নায় যারা এসেছে তারাও আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া মানুষ। তাদেরও ক্ষুধা রয়েছে, চাহিদা রয়েছে। এ জন্য মানুষের জন্য মানুষের অন্তর কাঁদা উচিত। নিজের প্রয়োজনের জিনিসটুকু রেখে বাকিটা মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা উচিত।

এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে আবারও ইরশাদ করেছেন ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা কোনো দানগ্রহীতাকে কোনোরূপ খোঁটা বা কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-খয়রাত ও সাহায্য-সেবাকে বরবাদ করে দিও না।’

এখানে বলা প্রয়োজন, ‘ডান হাতে দান করলে বাম হাতও যেন না জানে’এটি পবিত্র কথাটি ইসলামেরই নির্দেশ। দানশীলতা মানব চরিত্রের মহৎ গুণ, যা মানুষের হৃদয়কে কৃপণতার অভিশাপ থেকে মুক্ত ও সতেজ রাখে।

এ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা আরও বলেছেন, ‘যাদের মন-দিল কৃপণতা হতে মুক্ত, তারাই হবে সত্যিকার সাফল্যমণ্ডিত।’

দান পরকালের কঠিন সময়ে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করে, ইহকালে প্রাচুর্যময় ও দুশ্চিন্তাহীন মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপহার দেয়।

আল্লাহ প্রদত্ত ধন-সম্পদ অভাবী ও অসহায় মানুষের জন্য ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ জনকল্যাণমূলক কাজে সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ অনেক সওয়াবের কাজ। এসব খাতে অর্থ-সম্পদ দানের মন-মানসিকতা গড়ে তোলা দরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ